Rating Parameters (out of 10)
About The Reviewer
| Owned For | 1 Year+ |
| Ridden for | 10000km+ |
যদি মোটরসাইকেল প্রেমীদের তালিকা করা হয় তাহলে নি:সন্দেহে সে তালিকায় আমার নাম থাকবে উপরের দিকে। মোটরসাইকেলের প্রতি সব সময়েই একটু সফট কর্নার এবং ভালোলাগা রয়েছে। যখন আমি কিশোর থেকে তরুন হই, ভালোলাগার পরিমানও বাড়তে থাকে। আমি প্রথম মোটরসাইকেল চালানো শিখি ২০০৪ সালে, বন্ধুর মোটরসাইকেলে, বন্ধুর সাহায্যে। বাইক চালানো শেখার পরে যখনই সুযোগ পেতাম তখনই বাইক চালাতাম। ডায়াং, ডিস্কোভা্র, টিভিএস মেট্রো সহ বিভিন্ন বাইক চালানোর সুযোগ হয়। আমার খুবই ইচ্ছে হতো নিজের একটি বাইক কেনার। গত বছর আমার সুযোগ হয় নিজের জন্য বাইক কেনার। বাইকটি ছিলো TVS Apache RTR. দাম ছিলো ১লাখ ৯২ হাজার টাকা। সময়টি ছিলো ২০১৫ সালে মে মাস। বাইকটি কিনি রাজশাহীর টিভিএস শোরুম সাকুরা থেকে।অল্প কথায় আমি
আমি মো: আখতারুল ইসলাম। আমার নিজ এলাকা হলো নওগা নেয়ামতপুর। রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলায় মাস্টার্স শেষ করেছি। ছাত্র জীবন থেকেই আমি অনলাইন ভিত্তিক কাজের সাথে জড়িত, তাই নিজের একটি আয়ের উৎস ছিলো। আর তাই নিজের বাইক নিজে কিনবো এই টার্গেট শুরু থেকেই ছিলো। নিজের টাকায় নিজের প্রথম বাইক কেনার মতো আনন্দ ভাষায় প্রকাশের জিনিস নয়, বিশেষকরে আমাদের মতো ছেলেদের, কাছে যাদের দিনে দিনে টাকাটি জমাতে হয়েছে। বাইকটি কেনার পর থেকে প্রায় ২৩০০০কিমি চালিয়েছি। এই দীর্ঘ পথে বাইকটি নিয়ে ভালো এবং মন্দ উভয় অভিজ্ঞতাই সঞ্চয় হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো আমার এই অভিজ্ঞতার আলোকে এই বাইকটি নিয়ে কিছু কথা বলার।
বাইকটির ব্যবহার
বাইকটি নিয়ে আমার প্রয়োজনে শহরে ঘুরাঘুরি, মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়িতে যাতাযাতের জন্য বাইকটি ব্যবহার করি। যাত্রাপথে তেমন খারাপ অভিজ্ঞতা বা সমস্যার সম্মুখিন কখনও হই নাই, বরং ভালো সাসপেনশন, রেডি পিকআপ, ভালো সিটিং পজিশন আমাকে আরো ভালো অভিজ্ঞতা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বাইকটি নিয়ে একাধিক লং জার্নিতে যেতে হয়েছে। যেমন রাজশাহী-বগুড়া-রাজশাহী বা রাজশাহী-শিবগঞ্জ(চাপাই)-রাজশাহী। লং জার্নিতে বাইকটি আমার কাছে যথেষ্ঠ আরামদায়ক মনে হয়েছে। বাইকটি আমার কাছে ভালো গতিসম্পন্ন মনে হয়। আমি ১১৫কিমি/ঘন্টা স্পীডে চালিয়েছি।
বাইকটির ভাল দিকগুলো
পুর্বেই বলেছি বাইকটি নিজের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা তাই কেনার সময়েই লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করেছি যেন টাকাটি নষ্ট না হয়। আর তাই বাইকের অনেক কিছুই আমার ভালো লাগে। বিশেষকরে লম্বা সাইজ, সুন্দর ডিজাইন, রেডি পিকআপ ইত্যাদি। এক কথায় বাইকটি চমতকার।
বাইকটির খারাপ দিকগুলো
পৃথিবীতে সব কিছুরই ভালোর পাশাপাশি কিছু খারাপ দিকও থাকে। আমার বাইকটিও তার ব্যতিক্রম নয়। যেমন ৮০কিমি স্পীড ক্রস করলেই বাইকে ভাইব্রেশন হয়। ব্রেকিং এ মাঝে মাঝে চাকা পিছলে যায়, রাতের হেডলাইটের আলো কম মনে হয়। বাইকটি কেনার অল্পদিন পরেই চেইন বদলাতে হয়েছে। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স কম বিধায় স্পীড ব্রেকারে মাঝে মাঝে ঘষা খায়।
যত্ন
যত্ন নিলে বাইক টেকসই হয় এটি সবাই জানে। তাই চেষ্টা করি সাধ্যমতো নিয়মিত যত্ন নিতে। জ্বালানি হিসেবে ৬০%পেট্রোল এবং ৪০% অকটেন ব্যবহার করি।প্রতি ১০০০কিমি অন্তর মবিল চেন্জ করি।
এই ছিলো আমার বাইকের বিগত প্রায় দেড়বছরের অভিজ্ঞতা। যদিও বাইকটির কিছু খারাপ দিক রয়েছে তবুও বাইকটি নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। দাম এবং পারফরমেন্স বিবেচনায় আমাকে নম্বর দিতে বলা হলে আমি দিবো ১০ এ ৯।



