Sunra
Yamaha Banner
Search

মাহিন্দ্রা সেঞ্চুরো মোটরসাইকেল রিভিউ - নাজিম উদ্দীন

English Version
2018-06-30

Rating Parameters (out of 10)

Design

Comfort

Fuel Efficiency

Technology

Value For Money

About The Reviewer

Owned For0 to 3 months
Ridden for5000-10000km


Mahindra-Centuro-user-review-by-Najim-Uddin

গ্রামে বা শহরে বলতে গেলে সব জায়গাতেই মোটরসাইকেল বিশেষ ভূমিকা পালন করে । যে কোন রাস্তায় এটি নিয়ে চলাচল করা যায়। এছাড়া অল্প সময়ে অতি দ্রুত যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলকে সবাই প্রাধান্য দেয়। আমি মোঃ নাজিম উদ্দিন। পেশায় আমি একজন ব্যবসায়ী। সাধারন যাতায়াত ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য মূলত এই মোটরসাইকেলটি কিনি। আজ আমি আপনাদের কাছে আমার মোটরসাইকেল এর ভাল ও মন্দ কিছু বিষয় তুলে ধরবো। যারা নতুন মোটরসাইকেল কিনতে চান এগুলো তাদের অনেক কাজে লাগবে। আমার মোটরসাইকেল এর নাম মাহিন্দ্রা ১১০ সিসি। আমি এই মোটরসাইকেলটি প্রায় ২ বছর যাবত ব্যবহার করছি। আমি দুই বছরে প্রায় ২৫,০০ কিমি পথ চালিয়েছি। এটা আমার জীবনের ৩য় বাইক। এর আগে আমি হোন্ডা এবং ভিক্টর আর কোম্পানির মোটরসাইকেল কিনেছিলাম। আমি অনেক আগে থেকেই মোটরসাইকেল চালাই। আমি মাহিন্দ্রা ১১০ সিসির মোটরসাইকেলটি “রিয়াল মটরস” তাহেরপুর বাজার, বাঘমারা, রাজশাহী - এই শোরুমে গিয়ে এক দেখাতেই পছন্দ হয়ে যায় এবং সাথে সাথে কিনে ফেলি। আমি যখন এই মোটরসাইকেলটি কিনি তখন দামটা একটু কম ছিল এবং বিশেষ অফারের ছাড় ছিল। এছাড়াও আমি ভাল মাইলেজের আশা করেও এই মোটরসাইকেলটি কিনেছি।

আমি সবার আগে এই মোটরসাইকেলটির ডিজাইন পছন্দ করি। কেননা, মোটরসাইকেল এর ডিজাইন মনের মত না হলে সেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেও তেমন ভাল লাগে না । আমার এই মোটরসাইকেলর ডিজাইনটা খুব মার্জিত ও রুচিসম্মত মনে হয়েছে। আমার কাছে একদম পারফেক্ট লেগেছে। আমি একদিন মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন আমি তো ভেবেছিলাম আজকে মোটরসাইকেল এর সব কিছু শেষ। তখন আমি উঠে দেখি মোটরসাইকেল এর খুব বেশি ক্ষতি হয় নাই। শুধু মাত্র হেড লাইটের কাচে একটু ঘষা লেগেছে। তখন আমি ভাবলাম এই মোটরসাইকেলটির বডির প্লাস্টিক গুলোও অনেক মজবুত। এটি খুব সহজে ভেংগে যায় না। আমি মনে করি আমার মোটরসাইকেল এর এই ডিজাইনটা যে কেউ দেখলে অপছন্দ করতে পারবে না।

ইঞ্জিন বিষয়ে একটু কথা বলবো। আমার মোটরসাইকেল এর ইঞ্জিন পারফরমেন্স খুবই ভাল। কারন ২ বছরে এখন পর্যন্ত কোন মেজর সমস্যা দেখা দেয় নি। । আমি আমার মোটরসাইকেলটি সার্ভিসিং সেন্টারে থেকে ২ দিন সার্ভিসিং করিয়ে নিয়েছি। তবে তেমন কোন বড় সমস্যা ছিল না। শুধুমাত্র চেনটা একটু টাইট করে নিয়েছিলাম আর নাটবল্টু চেক করিয়ে নিয়েছি। আমার মোটরসাইকেল এর ইঞ্জিনের শব্দটা আমার খুব ভাল লাগে। এর ইঞ্জিনের ভিতরে অন্যান্য মোটরসাইকেল এর মত খারাপ কোন প্রকারের শব্দ করে না। এজন্য আমি ইঞ্জিন নিয়ে একটু বেশিই খুশি। ইঞ্জিনটা বেশিক্ষণ চললেও খুব বেশি গরম হয় না। এজন্য বলছি বাইকটির ইঞ্জিন পারফরমেন্স খুব ভাল। এছাড়া সার্ভিসিং সেন্টারের কাজের মান আমার কাছে ভাল লেগেছে। তাদের ব্যবহার অনেক ভাল । আমি দেখেছি খুব দক্ষতার সাথে তারা কাজ করে।

মোটরসাইকেলটির ব্রেক খুব ভাল। দ্রুত গতিতেও সহজেই মোটরসাইকেল কন্ট্রোল করা যায়। তবে হাইড্রোলিক ব্রেক থাকলে আর একটু ভাল হত। তবে মোটরসাইকেলটির ট্যায়ারের গ্রিপ ভাল না হওয়াতে ভেজা রাস্তায় অতিরিক্ত পরিমানে পিছলায়। মোটরসাইকেলটির সিটিং পজিশন খুব ভাল। এটি অনেক চওড়া এবং আমি খুব সহজেই এক সাথে ২/৩ জন বসে চালাতে পারি। ইঞ্জিন শক্তিশালী হওয়ায় এতে কোন সমস্যা হয় না। এছাড়া খুব সহজেই সিটে বসে মাটিতে পা রাখা যায়। মোটরসাইকেলটির হ্যান্ডেবার আমাকে আরাম এনে দেয়। তবে দীর্ঘ যাতায়াতে হাত ঝিনঝিন করে। আমি সর্বোচ্চ ৮০ কিমি/ ঘন্টায় গতি তুলেছি। মোটরসাইকেলটি ৭০ এর উপরে গতি তুললে খুব বেশি পরিমানে ভাইব্রেট করে। এছাড়া এক দিনে প্রায় ১০০ কিমি পথ চালিয়েছি। দীর্ঘ যাতায়াতে আমার হাত, পিঠ, বুক, কোমর ব্যথা করে। মোটরসাইকেলটির সুইচ গুলো দেখতে অনেক সুন্দর। যা ব্যবহারে আমার কোন সমস্যা হয় না এবং রাতের বেলায় আমি হেড লাইট থেকে অনেক আলো পাই, যা থেকে পরিষ্কার রাস্তা দেখতে আমার সুবিধা হয়। বাইকটির সাসপেনশনের কথা বলতে গেলে এটি খারাপ রাস্তায় অতিরিক্ত ঝাঁকুনি মনে হয়। পিছনের রাস্তা দেখতে লুকিং গ্লাস দুটি আমাকে অনেক ভাল সাপোর্ট দেয়। তবে মোটরসাইকেলটির চেন কিছু দিন পরপর টাইট করিয়ে নিতে হয়। তবে এটি আমার কাছে ঝামেলা মনে হয়।

মোটরসাইকেলটি শোরুম থেকে কেনার সময় যে মাইলেজের কথা বলেছিল, আমি তেমন মাইলেজ পাচ্ছি। এজন্য আমি সন্তুষ্ট না। তারা বলেছিল ১ লিটার তেলে ৬০-৬৫ কিমি পথ চলা যাবে, কিন্তু আমি সর্বোচ্চ ৫০ কিমি এবং সর্বোনিম্ন ৪৩ কিমি মাইলেজ পাই। এজন্য আমার মনে হয়েছে শোরুমের বিক্রেতার কথার সাথে কাজে মিল নেই। তবে এই মোটরসাইকেল এর পারফরমেন্স বিবেচনা করে দামটা আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে।

ভাল দিকঃ ১/ দাম সঠিক আছে, ২/ সিটিং পজিশন খুব ভাল, ৩/ সার্ভিসিং সেন্টারের কাজের মান ভাল, ৪/ ইঞ্জিন খুব শক্তিশালী, ৫/ ডিজাইন খুব সুন্দর, ৬/ মোটরসাইকেলটি সহজে ভাল কন্ট্রোল করা যায়, ৭/ সুইচগুলো দেখতে সুন্দর, ৮/ রাতে হেড লাইটে পর্যাপ্ত পরিমানে আলো হয়।

মন্দ দিকঃ ১/ তেল খরচ বেশি, ২/ বেশি স্পীডে হাত ঝিনঝিন করে ও মোটরসাইকেল ভাইব্রেট করে, ৩/ সাসপেনশন খুব একটা ভাল না, ৪/ ট্যায়ারের গ্রিপ গুলো ভাল না। ৫/ চেন খুব দ্রুত বড় হয়ে যায়।

পরিশেষে বলতে চাই এই মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন পারফরমেন্স খুবই ভাল। দামটাও সবার সাধ্যের মধ্যেই আছে। এজন্য এই মোটরসাইকেলটি আপনারা অনায়াসে কিনতে পারেন। আমি মনে করি এ মোটরসাইকেলটি কিনলে আপনারা এটি চালিয়ে ভাল অনুভূতি পাবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।




Rate This Review

Is this review helpful?

Rate count: 1
Ratings:
Rate 1
Rate 2
Rate 3
Rate 4
Rate 5

More reviews on Mahindra Centuro NXT

মাহিন্দ্রা সেঞ্চুরো মোটরসাইকেল রিভিউ - নাজিম উদ্দীন
2018-06-30

গ্রামে বা শহরে বলতে গেলে সব জায়গাতেই মোটরসাইকেল বিশেষ ভূমিকা পালন করে । যে কোন রাস্তায় এটি নিয়ে চলাচল করা যায়। এ...

Bangla English
Filter