Rating Parameters (out of 10)
About The Reviewer
| Owned For | 3 Months to 1 Year |
| Ridden for | 1000-5000km |
বাসা থেকে কর্মস্থল প্রায় ৫কিমি দূর। প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াতের জন্য অনেক দিন থেকেই একটি নিজস্ব বাহনের অভাব অনুভব করছিলাম। তাই নিজের প্রয়োজনে এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তেই একটি বাইক কেনার সিদ্ধান্ত নেই। টাকা সংগ্রহ করে অনেক দেখে শুনে নিজের পছন্দে একটি বাইক কিনি। আমি আল আমিন হোসাইন, পেশায় প্যাথলোজিস্ট। শেয়ার করবো আমার বাইক কেনা এবং স্বল্প সময় ব্যবহারের অভিজ্ঞতার কথা।পিছু ফিরে দেখা
হাই্স্কুলে পড়ি। বাইকের নেশা চেপে বসার পারফেক্ট সময়। আমার মধ্যেও বাইকের ভূত ঢুকে গিয়েছিলো। বাইক দেখলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলি। যদি চালাতে পারতাম। নিজের পরিবারে বাইক নাই। অবশেষে প্রতিবেশি বড়ভাইকে গিয়ে ধরলাম। তিনি হতাশ করেন নাই। আমাকে যত্ন করে বাইক চালানো শেখালেন তার হিরো হোন্ডা স্প্লেন্ডর প্লাস দিয়ে। বাইক তো চালানো শিখলাম। এখন বাইক দেখলেই বাইক চালাতে ইচ্ছে করে। এর ওর থেকে নিয়ে বাইক চালাই। বিভিন্ন ধরনের বাইক চালানোর সুযোগ হয়েছে। যেমন বাজাজ সিটি১০০, জিংফু ১২৫ ইত্যাদি।
নিজের কেনা প্রথম বাইক
পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে চাকরীতে ঢুকেছি। আমি থাকি নাটোর জেলার লালপুরে আর আমার কর্মস্থল গোপালপুরে। আমার বাসা থেকে প্রায় ৫কিমি দূর। প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য একটি বাইকের অভাববোধ হচ্ছিলো। কেননা প্রায়শই অফিস থেকে ফিরতে রাত হয়ে যায়। নিয়মিত বাহন পেতে কিছুটা সমস্যাই হতো। তাই পরিবারে জানাতে অনুমতি পেলাম। নিজের কাছে কিছু টাকা ছিলো কিন্তু টাকায় কম হচ্ছিলো। বাবা বললেন অতিরিক্ত যা লাগে তিনি দিবেন। এরপরে বাইকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম। নাটোর, তাহেরপুর, বানেশ্বর এর প্রায় সকল শোরুমে ঘুরে দেখলাম। আমার সামান্য ইচ্ছে ছিলো হিরো স্প্লেন্ডর কিনবো কিন্তু আমি যে হিরো হোন্ডা চালিয়েছি আর নতুন হিরো স্প্লেন্ডর এর মান আমার কাছে এক মনে হলো না। তাই এই বাইকের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিলাম। নাটোর আয়ান মোটরস এর শোরুমে কালো রং এর Haojue KA135 বাইকটি দেখে আমার খুবই ভালো লেগে গেলো। কিন্তু চাইনিজ বাইকে আস্থা কম ছিলো বিধায় একটু দোটানায় ছিলাম। আয়ান মোটরস এর কর্নধার সোহানুর ভাই আশ্বাস দিলেন মানের ব্যাপারে। বিশেষ করে Haojue Cool এর কথা বললেন। বিগত কয়েকবছর ধরে দেশে অনেকেই ব্যবহার করছে। মানের ব্যাপারে সন্দেহ নাই। এছাড়াও অন্যান্য শোরুমগুলো ঘুরে ডিজাইন, দাম ইত্যাদি বিবেচনায় Haojue Ka135 টাই আমার কাছে আমার জন্য সেরা মনে হলো। অবশেষে বাইকটি কিনে ফেললাম। পরবর্তিতে আমার দেখাদেথি আরো কয়েকজন এই বাইক কিনে ফেলে। এমনকি একজন কালো রংএর বাইক কিনবে কিন্তু শোরুম এ কালো রং এর বাইক না থাকায় আমাকে একজন এটাও অফার করে ভাই আমি আপনাকে আরো ৫০০০টাকা বেশি দিবো যদি এই বাইকটা আমাকে দেন। যাইহোক অবশেষে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরন হলো। নিজের জন্য একটি বাইক কিনতে পারলাম।
বর্ননা
বাইকটি নিয়ে আমি কিছু বলার আগে বাইকে কি কি আছে অল্প কথায় জেনে নেই-
সিসি: ১৩৫সিসি
ম্যাক্স-পাওয়ার: 8.0 KW @ 8000rpm
ম্যাক্স-টর্ক: 10.5Nm @ 6000rpm
ওজন: ১২৬কেজি
ব্রেক: সামনে ডিস্ক, পেছনে ড্রাম
গঠন ও ডিজাইন
বাইকটি ১৩৫সিসি কিন্তু এর স্পোর্টি লুক যে কারো এক দেখাতেই ভালো লেগে যাবে। কালোর উপরে সিলভার এবং লাল এর গ্রাফিক্স বাইকটির লুককে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এর এরো-ডাইনামিক ডিজাইন লুক এ্রর সাথে অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে। ফুল ডিজিটাল মিটার বাইকটিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই নির্দেশ করে। বাইক এ কালো রং আমার সব সময়েই পছন্দ। এই বাইকটির কালো রংয়ে অল্প কিন্তু মানানসই গ্রাফিক্স আমাকে মুগ্ধই করেছে। দুইস্তর বিশিষ্ট সীট আধুনিক স্পোর্টি বাইকের লুক এনে দিয়েছে।
ইনজিনবিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাইক চালানোর সুযোগ হয়েছে। ১৩৫সিসি ইনজিন হিসেবে আমি অন্য ১৫০সিসি বাইকের থেকে শক্তি বা স্বাচ্ছন্দে কম মনে হয় নাই। বাইকটির রেডী পিকআপ এবং শক্তি মুগ্ধ করার মতোই। নিমিষেই ৯০-১০০কিমি স্পীড তুলে ফেলা যায়। একা বা সহযাত্রী সহ কখনই বাইকটির শক্তির ঘাটতি অনুভব হয়নি।
আরাম এবং কন্ট্রোল
দুইস্তর বিশিষ্ট সামনের নীচু সীট চালককে যথেষ্ট আরাম দেয় বলেই আমার মনে হয়েছে। পেছনের পিলিয়ন সীটও যথেষ্ট আরামদায়ক এবং শক্ত ব্রেকে পিলিয়ন এসে চালকের উপরে পড়ে না। সামনের শক্তিশালী ডিস্ক ব্রেক এবং বাইকটির ওজন বাইকটির নিয়ন্ত্রনের খুবই পজিটিভ ভূমিকা রাখে। সাথে সামনে এবং পেছনের সাসপেনশন যথেষ্ট কার্যকরী এবং নরম হওয়াতে কন্ট্রোলিং এবং রাইড উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা দিয়ে থাকে।
হেডলাইট
হেডলাইটের আলো শক্তিশালী। হাইওয়ে বা গ্রামে রাতের রাস্তায় প্রায়শই আমাকে চালাতে হয় এবং তার উজ্বল এবং শক্তিশালী আলো খুবই সাহায্য করে।
জ্বালানি খরচ
বাইকটি যখন কিনি তখন বলা হয়েছিলো ৫০-৫৫কিমি/লিটার পাবো। প্রথম দিকে ৪৫কিমি এর মতো পেয়েছি। যখন ব্রেক ইন পিরিয়ড শেষ হলো তখন থেকে প্রতি লিটারে ৫২-৫৩কিমি পাচ্ছি। আমার জন্য সন্তোষজনক।
খারাপ দিকবাইকটির অনেকগুলো ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিকও রয়েছে যেমন-
১. পেছনের টায়ার চিকন। ব্রেকিং এ কখনও কখনও স্কিড করে।
২. সাইলেন্সার গার্ড হিসেবে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে অন্য বাইক স্টিল ব্যবহার করে। খুব সহজেই ঘষা-দাগ পড়ে যাচ্ছে। দেখতে খারাপ লাগে।
৩. সামনের মাডগার্ড ছোট, ইনজিনে কাদা ছিটায়। আলাদা ইনজিন গার্ড লাগালে গার্ডের সাথে মাডগার্ডটি লেগে যায়, মাঝের জায়গাটি খুবই সংকীর্ন।
শেষকথা
বাইকটি টেকসই কেমন হবে তা অন্তত ২-৩বছর ব্যবহার করলে হয়তো তখন বলা যাবে কিন্তু বর্তমান পারফরমেন্স সত্যিই অসাধারন। অন্তত এই বাজেটে ইনডিয়ান বাইকের থেকে পারফরমেন্স অনেক ভালো। বাইকের গঠন, ইনজিনের পারফরমেন্স ইত্যাদি বিচারে টেকসই এর ব্যাপারে পজিটিভ ধারনা করা যেতে পারে। কিছু মন্দ রয়েছে যেগুলো দূর করতে কোম্পানীকে কোনো বেগ পেতেই হবে না, বরং এগুলো যদি সংশোধন করতে পারে তবে বাইকটির গ্রহনযোগ্যতা আরো অনেক বেড়ে যাবে বলেই আমি মনে করি। সর্বপরি যারা এই বাজেটে একটি ভালো বাইক খুজছেন তারা Haojue KA135 বিবেচনায় নিতে পারেন। বাইকটিকে আমি ১০ এ ৯.৫ দিবো।



