Bajaj Platina 100 ES বাইকটি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের কমিউটার বাইকের বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি মাইলেজ, আরামদায়ক রাইডিং এবং স্বল্প রক্ষণাবেক্ষণ খরচের জন্য বিশেষ পরিচিত। দৈনন্দিন যাতায়াত বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য যারা একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী খুঁজছেন, তাদের জন্য Platina 100 ES একটি আদর্শ পছন্দ। এই রিভিউতে আমরা এই বাইকের সকল গুরুত্বপূর্ণ ফিচারস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।
ডিজাইন
Bajaj Platina 100 ES-এর ডিজাইন মূলত কমিউটার-বান্ধব এবং কার্যকরীতার উপর জোর দিয়ে তৈরি। এতে কোনো অপ্রয়োজনীয় চাকচিক্য নেই, বরং এর ডিজাইন বেশ সরল ও মার্জিত। বাইকটির সামনের দিকে একটি বড় আকারের হেডল্যাম্প ও এর উপরে আকর্ষণীয় LED Daytime Running Light (DRL) রয়েছে, যা বাইকটিকে একটি আধুনিক লুক দেয় এবং দিনের বেলায়ও ভালো ভিজিবিলিটি নিশ্চিত করে। ফুয়েল ট্যাংকের উপর ব্যবহৃত গ্রাফিক্সগুলো বেশ সুরুচিপূর্ণ, যা বাইকটিকে একটি রুচিশীল আকর্ষণ প্রদান করে। দীর্ঘ ও আরামদায়ক সিটটি এর ডিজাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা রাইডার ও পিলিয়ন উভয়ের জন্য দীর্ঘপথের যাত্রায় স্বস্তি দেয়। সবমিলিয়ে, Platina 100 ES-এর ডিজাইন প্রমাণ করে যে, একটি বাইককে ভালো পারফর্ম করার জন্য অতিরিক্ত স্পোর্টি লুকের প্রয়োজন নেই।
ডাইমেনশন
কমিউটার বাইক হিসেবে Platina 100 ES-এর ডাইমেনশন অত্যন্ত ব্যবহারিক এবং ট্র্যাফিকের মধ্যে সাবলীলভাবে চালানোর জন্য উপযুক্ত। বাইকটির লম্বা ২০০০ মিমি , চওড়া (Width) ৮৪০ মিমি এবং উচ্চতা ১০৬০ মিমি। এর হুইলবেস ১২৫৫ মিমি, যা বাইকটিকে স্থিতিশীলতা প্রদান করে। তবে, এই বাইকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডাইমেনশনাল ফিচার হলো এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স , প্রায় ১৯০

মিমি এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকার কারণে এটি বাংলাদেশের রাস্তার খারাপ অবস্থা, উঁচু স্পিড ব্রেকার বা ভাঙাচোরা রাস্তা খুব সহজেই পার হতে পারে, যা কমিউটারদের জন্য একটি বিশাল সুবিধা। এছাড়াও এর কার্ব ওয়েট মাত্র ১১৭ কেজি যা এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাফিকের মধ্যে হ্যান্ডেল করার জন্য যথেষ্ট হালকা।
ইঞ্জিন
Platina 100 ES-এর হৃদপিণ্ড হলো এর শক্তিশালী ও অত্যন্ত জ্বালানি-সাশ্রয়ী ইঞ্জিন। এতে রয়েছে ১০২ সিসি ডিসপ্লেসমেন্টের DTS-i প্রযুক্তির ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি প্রায় ৭৫০০ আরপিএম-এ ৮.২ পিএস শক্তি এবং ৫৫০০ আরপিএম-এ ৮.৬ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এই ইঞ্জিনটির মূল আকর্ষণ হলো ExhausTEC প্রযুক্তি। এটি নিম্ন আরপিএম-এও বাইকের টর্ক বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে ট্র্যাফিকের মধ্যে বাইকের পিক-আপ এবং দ্রুত গতি তোলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। ৪-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স দ্বারা চালিত এই ইঞ্জিনটি মূলত অবিশ্বাস্য মাইলেজ প্রদানের জন্য টিউন করা হয়েছে, যা এটিকে মাইলেজ-সন্ধানী বাইকারদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ব্রেকিং
Bajaj Platina 100 ES-এর ব্রেকিং সিস্টেমে নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত, এর সামনে এবং পিছনে উভয় দিকেই ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়। সামনের ব্রেকটি ১৩০ মিমি ড্রাম এবং পেছনের ব্রেকটি ১১০ মিমি ড্রাম হয়ে থাকে।
তবে, আধুনিক সংস্করণগুলোতে নিরাপত্তার জন্য অ্যান্টি-স্কিড ব্রেকিং সিস্টেম বা কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি একই সাথে সামনের এবং পিছনের ব্রেকগুলি প্রয়োগ করে, যা হঠাৎ ব্রেক করার সময় চাকা স্লিপ করা বা স্কিড করার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে ভেজা রাস্তায়। কমিউটার বাইকের সেগমেন্টে এই ফিচারটি নিঃসন্দেহে রাইডারের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
সাসপেনশন
Platina 100 ES-এর অন্যতম সেরা দিক হলো এর সাসপেনশন প্রযুক্তি, যা বাইকটিকে এই সেগমেন্টের সবচেয়ে আরামদায়ক বাইকগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে।
সামনের সাসপেনশন: সামনে রয়েছে হাইড্রোলিক টেলিস্কোপিক ফর্ক যার ট্র্যাভেল ১৩৫ মিমি পর্যন্ত। এটি রাস্তার ছোটখাটো ঝাঁকুনিগুলো দক্ষতার সাথে শোষণ করে নেয়।
পেছনের সাসপেনশন: পেছনে ব্যবহৃত হয়েছে এসএনএস সাসপেনশন। এটি একটি ডাবল স্প্রিং মেকানিজম, যা লোড ও রাস্তার ভিন্নতা অনুযায়ী আলাদাভাবে কাজ করে। এই বিশেষ সাসপেনশন সিস্টেমটি রাস্তার বড় গর্ত বা অসমান রাস্তায় চলাচলের সময় রাইডার ও পিলিয়নকে সর্বোচ্চ আরাম দিতে সক্ষম। এই উন্নত সাসপেনশন সেটআপ খারাপ রাস্তায়ও রাইডকে মসৃণ ও আরামদায়ক রাখে।
টায়ার
সঠিক গ্রিপ এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য Platina 100 ES-এ উপযুক্ত আকারের টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
সামনের টায়ার: ২.৭৫ x ১৭ ইঞ্চি টিউব টাইপ টায়ার।
পেছনের টায়ার: ৩.০০ x ১৭ ইঞ্চি টিউব টাইপ টায়ার।
১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইলসহ এই টায়ারগুলি কমিউটার বাইকের জন্য একটি আদর্শ সেটআপ। টায়ারের রেগুলার ট্রেড প্যাটার্ন শুকনো এবং ভেজা উভয় রাস্তাতেই মোটামুটি ভালো গ্রিপ প্রদান করে। যদিও টায়ারগুলো কিছুটা চিকন, এটি মূলত বাইকের মাইলেজ এবং হালকা অনুভূতি ধরে রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
ইলেকট্রিক্যাল ও মিটার কনসোল
বাইকটির ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে। ইলেকট্রিক স্টার্ট ফাংশনটি দৈনন্দিন ব্যবহারকে অনেক সহজ করে তোলে। বাইকটিতে ১২ ভোল্ট (12V) ডিসি সিস্টেম এবং একটি এলইডি ডিআরএল সহ একটি সাধারণ হ্যালোজেন হেডল্যাম্প ব্যবহার করা হয়েছে। এলইডি ডিআরএল বাইকের ফ্রন্ট লুককে প্রিমিয়াম করে এবং এটি সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মিটার কনসোলটি একটি অ্যানালগ ইউনিট। এতে একটি বড় আকারের স্পিডোমিটার, ওডোমিটার এবং একটি ফুয়েল গেজ রয়েছে। অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিসপ্লে না থাকলেও, এটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সকল তথ্য স্পষ্টভাবে দেখায়। কমিউটার বাইকের ক্ষেত্রে এই সরলতা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমাতে সাহায্য করে।
সবশেষে
Bajaj Platina 100 ES একটি বাইক যা তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। এটি উচ্চ মাইলেজ, আরামদায়ক রাইডিং এবং স্বল্প দামের একটি দুর্দান্ত প্যাকেজ। উন্নত সাসপেনশন এবং অ্যান্টি-স্কিড ব্রেকিং সিস্টেম এটিকে এই সেগমেন্টের অন্যান্য বাইকের তুলনায় বেশ এগিয়ে রাখে। যদিও এর ডিজাইন খুবই সাধারণ এবং এতে কোনো ডিজিটাল ফিচার নেই, তবুও দৈনন্দিন যাতায়াত, অফিসিয়াল কাজ অথবা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান। যারা দীর্ঘস্থায়ী এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী একটি বাইক খুঁজছেন, তাদের জন্য Bajaj Platina 100 ES হতে পারে সেরা পছন্দ।