২৩, ২৪ ও ২৫ এপ্রিল ২০২৬, এই তিন দিন রাজধানী International Convention City Bashundhara (আইসিসিবি)-তে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত “দশম ঢাকা বাইক শো”। প্রতি বছরের মতো এবছরও এই আয়োজনটি বাইকার ও মোটরসাইকেল প্রেমীদের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হওয়ার কথা ছিল। হল ১ এবং হল ৩ জুড়ে সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন বাইক, যেখানে নতুন প্রযুক্তি, ডিজাইন ও উদ্ভাবনের ছোঁয়া থাকার প্রত্যাশা ছিল সবার।
প্রথমেই ভালো দিকগুলো বলতেই হয়। এবারের শো তে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV)-এর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন নতুন ইভি ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করায় বোঝা যায়, বাংলাদেশে ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে। Vmoto তাদের একাধিক নতুন ইভি উন্মোচন করে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে, এবং স্টান্ট শো আয়োজন করে কিছুটা বিনোদনের ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি CFMOTO তাদের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের ইভি, একটি স্কুটার ও একটি ডুয়াল পারপাস বাইক লঞ্চ করে, যা অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
পুরো আয়োজনজুড়ে বাইকার ও বাইকপ্রেমীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। পরিবেশ ছিল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল। দর্শনার্থীদের জন্য ছোটখাটো গেম শো ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা আয়োজনটিকে কিছুটা প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।
তবে এই ইতিবাচক দিকগুলোর মাঝেও থেকে গেছে বড় ধরনের শূন্যতা, যা পুরো আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সবচেয়ে বড় হতাশা ছিল, কোনো বড় জাপানিজ বা ইন্ডিয়ান মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের অনুপস্থিতি। যেখানে সাধারণত Honda, Yamaha, Suzuki কিংবা Bajaj-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো বাইকারদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্র হয়ে থাকে, সেখানে তাদের অনুপস্থিতি এই শো কে অনেকটাই প্রাণহীন করে তুলেছে।
শুধু তাই নয়, কোনো আইকনিক মডেল বা হাই-সিসি বাইকের উপস্থিতিও ছিল না বললেই চলে। একজন প্রকৃত বাইকারের কাছে বাইক শো মানেই নতুন, শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় মডেলের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ। কিন্তু এবারের শো সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইভি সেগমেন্টে জোর দেওয়া হলেও, বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইলেকট্রিক ব্র্যান্ডগুলোর অনুপস্থিতি আরও বেশি চোখে পড়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড তুলনা করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
এন্টারটেইনমেন্টের ক্ষেত্রেও ছিল সীমাবদ্ধতা। Vmoto-এর স্টান্ট শো ছাড়া তেমন কোনো বড় আয়োজন চোখে পড়েনি। এত বড় একটি ইভেন্টে আরও বৈচিত্র্যময় বিনোদনের আশা করাই স্বাভাবিক ছিল।
এছাড়া, তীব্র গরমের মধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা বা কাছাকাছি ফুড কোর্টের অভাব ছিল একটি বড় দুর্বলতা। এই ধরনের বেসিক সুবিধা না থাকায় অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েছেন।
সব মিলিয়ে, “দশম ঢাকা বাইক শো ২০২৬” একটি সম্ভাবনাময় আয়োজন হয়েও পূর্ণতা পায়নি। যেখানে বাইকারদের জন্য এটি হওয়ার কথা ছিল উৎসবের মতো, একটি ঈদের আনন্দের মত পরিবেশ—সেখানে তা পরিণত হয়েছে আংশিক হতাশার অভিজ্ঞতায়।
ভবিষ্যতের জন্য কিছু প্রত্যাশা থেকেই যায়। জনপ্রিয় সব মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, আইকনিক ও হাই-সিসি মডেল প্রদর্শন, ইভি ব্র্যান্ডগুলোকে এক ছাদের নিচে এনে তুলনামূলক অভিজ্ঞতা দেওয়া, এবং খাবার ও পানির জন্য আসেপাসে বুথের ব্যবস্থা রাখা, এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলে এই আয়োজন সত্যিকার অর্থেই বাইকারদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবে পরিণত হতে পারে।
শেষ কথা, ঢাকা বাইক শো এখনও সম্ভাবনাময়। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আয়োজকদের আরও সচেতন, পরিকল্পিত এবং দর্শনার্থী-কেন্দ্রিক হতে হবে।